মঙ্গলবার   ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

ব্রেকিং:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক ছুটি ৭৫ দিন আগামী মার্চে ঢাকা উত্তর সিটির ভোটের ইঙ্গিত সিইসির জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী আস্থা ভোটে টিকে গেলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নেপালের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ খালেদার অনুপস্থিতিতেই কারাগারে বিচার চলবে রব ও মান্নার বিয়ে যুক্তফ্রন্টে, পরকীয়া ঐক্যফ্রন্টে: মাহী এটা জোট নয়, ঘোট : তথ্যমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় পেলেন সিনহা আবারও সরকার গঠনে নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর পদ্মা সেতু প্রকল্পের নামফলক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী
৩৭০

ফেসবুকে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নের বিজ্ঞাপন: মনিটর করছে ডিএমপি

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০১৯  

এসএসসি পরীক্ষার আর আছে মাত্র ৭ দিন। এর আগেই শুরু হয়ে গেছে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন সরবরাহের বিজ্ঞাপনের প্রতিযোগিতা। ২০০-৫০০ টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বোর্ডের প্রশ্ন পৌঁছানোর গ্যারান্টিও দেওয়া হচ্ছে। তবে এই সব বিজ্ঞাপন ভুয়া প্রশ্নের এবং প্রশ্ন ফাঁসের কোনও সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের(ডিএমপি) সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশন। এর বাইরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ড প্রশ্ন ফাঁস রোধে নিয়েছে নানা পদক্ষেপ। তাই তারাও বলছে একই কথা– প্রশ্ন ফাঁস হবে না।

তবে, প্রশাসনের এত নজরদারি সত্ত্বেও মোটেও কমেনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রশ্ন সরবরাহের বিজ্ঞাপন দেওয়ার হিড়িক। ফেসবুক, ফেসবুক মেসেঞ্জার এবং হোয়াটস অ্যাপে অন্তত ৯ টি গ্রুপ আছে যারা প্রশ্ন সরবরাহের বিজ্ঞাপনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে আছে- এসএসসি কোশ্চেন আউট-২০১৯, এসএসসি অল বোর্ড কোশ্চেন আউট ২০১৯, পিএসসি-জেএসসি-এসএসসি-এইচএসসি অল এক্সাম সাজেশন অ্যান্ড কোশ্চেন ব্যাংক, জেএসসি-এসএসসি-এইচএসসি কোশ্চেন আউট, ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপ এসএসসি ব্যাচ ২০১৯, হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ এসএসসি ২০১৯ কিউ গ্রুপ, এসএসসি মিশন ২০১৯।

এছাড়া প্রশ্নের বিজ্ঞাপনে সক্রিয় কয়েকটি ফেসবুক প্রোফাইলের মধ্যে রয়েছে নাহিদ আলী, এমএক্স মুহিত, আরিয়ান খান, জাহিদুল আলম সরকার, ফয়সাল আহমেদ পাটোয়ারি। বিজ্ঞাপনে বলা হচ্ছে- ‘এসএসসি ২০১৯ এর সরাসরি বোর্ড কপি প্রশ্ন দিবো। টাকা কোনো এডভান্স নয়.. ১০০ ভাগ কমন এর পর দিবা। যারা বিগত বছর আমার থেকে প্রশ্ন নিয়েছো তারা খুব ভালোভাবে আমাকে চিনো। কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। প্রতি প্রশ্নের টাকা পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দিতে হবে, ৩০০ টাকা করে। তাই প্রশ্ন নিতে চাইলে জলদি ইনবক্স করো।’          

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার আগে থেকেই তৎপর শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা। তবে মন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের পর শিক্ষা বোর্ডগুলো পরীক্ষা চলাকালে বাড়তি সতর্ক ব্যবস্থা হাতে নেবে। এবার প্রশ্ন ফাঁস এবং নকল রোধে কঠোর নীতি অবলম্বন করবে শিক্ষা বোর্ড।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির প্রধান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, ‘২০১৮ সালে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, এবার তার চেয়েও ভিন্ন কিছু কৌশল আমরা নিয়েছি। এবারও প্রশ্নফাঁস হবে না বলে আশা করি। শিক্ষা বোর্ডগুলো এ ব্যাপারে বাড়তি সতর্ক অবলম্বন করছে।’

অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, ‘এবার প্রশ্নপত্রের সেট অনেক বেশি। জেএসসি থেকে আমরা এ পরিবর্তন আনা শুরু করেছি।’

তবে এবার কত সেট ছাপা হবে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য কাউকে জানানো হবে না বলে উল্লেখ করেন।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার আগেই জেলা প্রশাসকদের কাছে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেওয়া হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে জেলা প্রশাসকদের মোবাইল নম্বরে সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশ্ন সেট জানিয়ে দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ীই কেন্দ্র সচিবদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্র।

সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে উল্লেখ করে অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, ‘সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে। প্রয়োজনে ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

তিনি জানান, প্রশ্ন প্রণয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয় পরীক্ষা শুরুর পাঁচ থেকে ছয় মাস আগেই। শিক্ষা বোর্ডগুলোর নির্দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষক বাছাই করে ৬৪ জন মডারেটরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ৬৪ সেট প্রশ্ন তৈরির পর তা বাছাই করে নির্দিষ্ট সেট বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মডারেটরদের আলাদা আলাদাভাবে প্রশ্ন চূড়ান্ত করার পর সিলগালা করে বোর্ডের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন। সিলগালা অবস্থায়ই প্রশ্নপত্র পাঠানো হয় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সাব কমিটির প্রধান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে। অন্য শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা জানতে পারবেন না কোন সেট ছাপা হচ্ছে।

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এবার সিকিউরিটি টেপ ব্যবহার না করে আরও আধুনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘প্রশ্নফাঁস রোধে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পেপারের খামে প্রশ্নপত্র পাঠানো হবে প্রতিটি কেন্দ্রে। খাম কেউ আগে খুলে ফেললে ধরা পড়ে যাবে।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশন বলছে, প্রশ্নপত্র কোনোভাবেই ফাঁস হওয়ার সুযোগ নাই। যথাযথ কর্তৃপক্ষ সেভাবেই ব্যবস্থা নিয়েছে। সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশন আরও বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা জনপ্রিয় চ্যাট ইঞ্জিনগুলোর পাবলিক বা ক্লোজড গ্রুপে যারা প্রশ্ন সরবরাহ করবে বলে চটকদার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, সেগুলো ভুয়া! ইতোমধ্যে সেই সব ভুয়া কন্টেন্টগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ইউনিট ও ডিবির সমন্বয়ে ১০টি টিম ভুয়া প্রশ্নপত্র জালিয়াতদের ধরার জন্য বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে।

ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে যেসব প্রশ্ন সরবরাহের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় তা সম্পূর্ণ ভুয়া। এর আগেও আমরা বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছি। আমাদের মনিটরিং সার্বক্ষণিক চলছে, একই সঙ্গে এদের ধরতে অভিযান চলমান আছে।’

ডিএমপি সূত্রে আরও জানা যায়, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও গুজব রোধে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি বাড়িয়েছে। এরইমধ্যে ১০ সদস্যের টিম প্রশ্নফাঁসকারী ফেসবুক গ্রুপ ও পেজকে মনিটর করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্নফাঁসকারী ও গুজব রটনাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সাইবার ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে ১০টি স্পেয়ার হিট টিমও গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ইলেকট্রনিক ডিভাইস দিয়ে নকল রোধে পরীক্ষা কেন্দ্রে বসানো হবে ম্যাগনেট, অপ্টিক ও ফ্রিকোয়েন্সি ডিটেক্টর।

প্রসঙ্গত, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ৪ হাজার ৯৬৪টি কেন্দ্রে ২৫ লাখ ৭৩ হাজার ৪৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। এরমধ্যে এসএসসি পরীক্ষায় ২১ লাখ ৩৭ হাজার ৩০৭ জন, দাখিল পরীক্ষায় ৩ লাখ ১০ হাজার ২৭২ জন এবং কারিগরিতে অংশ নেবে ১ লাখ ২৬ হাজার ৩৭২ জন।  পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে ২৭ জানুয়ারি থেকে পরীক্ষা চলার সময় ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।

আরও পড়ুন
শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
  • সেই ভূমিহীন ১১ পরিবার পেলো সরকারি জমি

  • বাংলা ইশারা ভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

  • ভিক্ষুকমুক্ত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

  • দুর্নীতিবাজদের ধরে ধরে বিচার করতে হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী 

  • জাতীয় পার্টি শক্তিশালী বিরোধী দল: রাঙ্গা

  • রিপোর্ট দেওয়ার নামে যাচ্ছেতাই মন্তব্য করলেই হবে না: দুদক

  • রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে হামলার শিকার দুই সাংবাদিক

  • রংপুরের আইনজীবী বাবু সোনা হত্যায় স্ত্রী স্নিগ্ধার মৃত্যুদণ্ড

  • ফিরতে পারে ডাইনোসর!

  • শনি গ্রহে মেঘ ছাড়াই চরম বৃষ্টি

  • ব্রেক্সিট সমাধান যাচাই মঙ্গলবার

  • নিঃসঙ্গ হাঁসটির বিদায়

  • ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে আসাম!

  • হাড়কাঁপানো শীতে সাঁতার!

  • বিপিএল ছাড়ছেন ডি ভিলিয়ার্স

  • বিপর্যয় কাটাতে হিমশিম খাচ্ছে জাপান

  • এসএসসির প্রশ্নের মোড়ক খুলবে তিন কর্মকর্তার স্বাক্ষরে

  • ‘দরিদ্র ও মেধাবী দুজন ছাত্র/ছাত্রীকে পড়াতে চাই’

  • ‘মেঘনা নদীর চারপাশে নতুন নতুন চর জেগে ওঠছে’

  • শপথের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করলেন ঐক্যফ্রন্টের দু’জন প্রার্থী

  • শ্রম মন্ত্রণালয়কে ইপিজেড পরিদর্শনের ক্ষমতা দিয়ে আইন

  • ‘নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চাইলে ইউএস-বাংলার দুর্ঘটনা এড়ানো যেত’

  • ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেবে ছাত্রদল

  • ‘আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশ আমেরিকার চেয়ে ভালো হবে’

  • ‘সাংবাদিক সমীর দেবনাথ আর নেই’

  • সৌদিতে পাসপোর্ট ইকামা কার্ড রাখতে পারবেন না নিয়োগকর্তা

  • ‘ঐক্যফ্রন্টের প্রতিক্রিয়া গণতন্ত্র সম্মত নয়’

  • গণভবনে বিদেশি কূটনীতিকদের আপ্যায়ন

  • ‘আওয়ামী লীগ ছেড়ে আমি আসিনি’

  • চীনের সঙ্গে যৌথ রেল প্রকল্প নিয়ে চুক্তি বাতিল করল মালয়েশিয়া