মঙ্গলবার   ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

ব্রেকিং:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক ছুটি ৭৫ দিন আগামী মার্চে ঢাকা উত্তর সিটির ভোটের ইঙ্গিত সিইসির জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী আস্থা ভোটে টিকে গেলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নেপালের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ খালেদার অনুপস্থিতিতেই কারাগারে বিচার চলবে রব ও মান্নার বিয়ে যুক্তফ্রন্টে, পরকীয়া ঐক্যফ্রন্টে: মাহী এটা জোট নয়, ঘোট : তথ্যমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় পেলেন সিনহা আবারও সরকার গঠনে নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর পদ্মা সেতু প্রকল্পের নামফলক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী
২৮১

দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো: ডয়চে ভেলেকে পরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০১৯  

‘বাংলাদেশে মানবাধিকারের অবস্থা অনেক ভালো বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন মানবাধিকার, রোহিঙ্গা সংকট ও তিস্তা ইস্যু নিয়ে। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমি বিশ্বাস করি, মানুষের উন্নয়ন, মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার সবচেয়ে বড় মানবাধিকার৷ তাকে সুষ্ঠুভাবে, উন্নতভাবে বাঁচিয়ে রাখার অধিকারটা হলো সবচেয়ে বড় মানবাধিকার৷ এটায় বাংলাদেশ সরকার অনেক এগিয়ে৷

তিনি বলেন, আগে দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল ৫৮ ভাগ৷ ২০০৯ সালে ছিল ৪২ ভাগ৷ এখন কমে গিয়ে হয়েছে ২১ ভাগ৷ আর অতি দারিদ্র্য কমে হয়েছে ১০ ভাগ৷ আমরা তাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করেছি৷ আমরা চাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে৷ সবার জন্য অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা নিশ্চিত করতে৷ সব জনগণ, সব নাগরিকের জনগণের জন্য সমান অধিকার, সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা আমাদের প্রত্যাশা৷

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই যে মানবাধিকার নিয়ে কথা ওঠে, ‘এটা করেন, ওটা করেন', এগুলো অলীক৷ দেখতে হবে মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার, তার খাওয়ার অধিকার, তার বাড়ির অধিকার আমরা নিশ্চিত করছি কিনা৷ এগুলোর জন্য আমরা কাজ করছি৷’

তিনি বলেন, ‘মঙ্গা মানবাধিকারকে হরণ করে৷ না খেয়ে মারা যাওয়া সবচেয়ে বড় মানবাধিকারের লঙ্ঘন৷ আমার সরকার মানুষের খাওয়া-পরার ব্যবস্থা করে মানবাধিকার রক্ষা করছে৷ এই সরকার টিকে থাকলে আমরা বিশ্বাস করি, অতি দরিদ্রের সংখ্যা আমরা ৫ ভাগে নিয়ে আসব৷ আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি৷’

বিচারববির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও খুনের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনি চিন্তা করেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর ৩৩ হাজার মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার। আর  আমাদের এখানে বছরে যদি ১০জন নিহত হন। সেটাই বড় করে দেখা হয়। অন্যদিকে ৩৩ হাজার মানুষের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশনে কখনো দেখায়।

তিনি বলেন, ট্রাফিক লাইটে সে পার হয়ে গেছে, পুলিশ ওখানে গিয়ে তাকে গুলি করে মেরে ফেলেছে৷ ইদানিং সেলফোন বের হওয়ার কারণে মাঝেমধ্যে কিছু তথ্য বের হয়৷ এগুলো তাদের মিডিয়া কখনো প্রকাশ করে না বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি এ দেশেও যা বলতে চান, আপনার টিভি চ্যানেল খুলে দেখেন, সরকারের চৌদ্দ পুরুষ এখানে ডাউন করছে৷ কোনো আপত্তি নেই, চলছে৷ এখানে যত পত্র-পত্রিকা বের হয়, তা প্যারিস শহরেও বের হয় না৷ সারা ইউরোপে কত পেপার বের হয়, আমি জানি না? এখানে যত পেপার বের হয়, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, পৃথিবীর খুব কম দেশেই তা আছে৷ আমরা এখানে মানুষের বলা কথার কোনো সেন্সর করি না৷ অ্যামেরিকা হলো ফ্রিডম অব স্পিচের দেশ৷ সেখানে যদি আপনি আল জাজিরা দেখতে চান, তাহলে মাসে ২৭০ ডলার দিতে হয়৷ আপনি যদি আরটি দেখতে চান, অনেক টাকা দিতে হবে৷ ব্যান্ড না, কিন্তু অনেক টাকা দিতে হয়৷ আর এখানে মাসে ১৫ ডলার দিয়ে সব চ্যানেল দেখা যায়৷ আমাদের এখানে এ ধরনের কোনো বৈষম্য নেই।’

 এছাড়া ডয়চে ভেলের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেন নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা আমাদের একটা বড় সমস্যা৷ প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্রয় দেয়ায় পৃথিবী একটা বড় রকমের জেনোসাইড থেকে রেহাই পেয়েছে৷ তবে তারা আমাদের দেশে বেশিদিন থাকলে এই এলাকায় অস্থিতিশীলতা দেখা দেবে৷ তাতে অনেকের অনেক ক্ষতি হবে৷ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোরও ক্ষতি হবে৷  তাই অতিদ্রুত এর সামাধান করতে হবে৷ 

মিয়ানমারের ওপর আস্থা ছিলো জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করেছিলাম যে তারা অ্যারেঞ্জমেন্ট অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে। তবে সে ব্যাপারে তারা খুব অগ্রসর হচ্ছে না৷ এই পরিস্থিতিতে আমরা চিন্তা করছি কিভাবে এর সমাধান করা যায়।’ তবে সমাধানের একাধিক পরিকল্পনা আছে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,‘ আমরা চাই একটি ‘‘সেফ জোন ইনসাইড রাখাইন‘' করতে৷ মিয়ানমারের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোই ওখানে তদারকি করবে৷ এটাতে আমার ধারণা হয়তো মিয়ানমার রাজি হবে৷ বিদেশি শক্তি নয়, তাদেরই আসিয়ান, চীনকে দিয়ে একটা সেফ জোন করা৷ এটা জাতিসংঘের মডেল৷ আরেকটি হলো, এই সময়ে রোহিঙ্গাদের আমরা বিভিন্ন দেশে পাঠাতে পারি। তাদের বিভিন্ন কাজে নিয়োগের দেওয়ারও চিন্তা রয়েছে আমাদের৷ এরকম একাধিক পরিকল্পনা আছে আমাদের৷ তবে সবগুলিই নির্ভর করছে মিয়ানমারের অবস্থার ওপর৷ তারা কতটুকু সহনশীল হয়, তারা পৃথিবীর আইনগুলো কতটুকু মানে, তার ওপর৷’ 

রোহিঙ্গা সংকটে ভারত ও চীনের ভূমিকা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ভারত ও চীনের বিশেষ ভূমিকা রাখা উচিত৷ কারণ, মিয়ানমার চীনের কথা শোনে৷ আর এখানে কোনো অশান্তি বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে ভারতসহ সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷ এই অঞ্চলে আমরা উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা শুরু করেছি৷ আগামীতে এশিয়া হবে এই পৃথিবীর আকর্ষণ। ভারত, চীন, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড সবাইকে নিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হবে৷ তাদের বিশেষ ভূমিকা প্রয়োজন৷ বিশেষ করে ভারত ও চীনের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’ 

ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ৷ তাদের সঙ্গে আমাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক৷ সংস্কৃতি, ভাষাসহ বিভিন্নভাবে তাদের সঙ্গে আমরা সম্পৃক্ত৷’ 

ভারতের সঙ্গে এখন সবচয়ে উষ্ণ সম্পর্ক মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন৷ আমন্ত্রণ জনিয়েছেন৷ তারা বন্ধু দেশ৷ আমিও সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম সফরে ভারতে যাবো সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কটাকে জিইয়ে রাখার জন্য৷ এটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।’

সমস্যা ও সমস্যার নিয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো প্রতিবেশী দেশের মধ্যে থাকে৷ কিন্তু  সম্পর্ক যদি মধুর থাকে, তাহলে সব সমস্যা আপনাতেই শেষ হয়৷ আমি প্রায়ই বলে থাকি৷ আপনার বউয়ের সাথে যদি সম্পর্ক মধুর থাকে, আপনার ছোটখাট সমস্যা এগুলো এমনিতেই সামাধান হয়৷ আর সম্পর্ক যদি তিক্ত হয়, তাহলে ছোট অসুবিধাটাও বড় আকারে দেখা দেয়৷’

তিস্তার পানি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ৫৪টা নদী৷ তিস্তা নিয়ে আপনি চিন্তা করেন৷ তিস্তা নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক আলাপ-আলোচনা হয়েছে৷  এবং এক পর্যায়ে এটার সমাধানের পথ মোটামুটিভাবে নির্ধারিত হয়েছিল৷ ওদেরও অসুবিধা আছে৷ আমাদেরও অসুবিধা আছে৷ আমরা জাতিসংঘে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, অঞ্চলের অববাহিকায় যারা থাকে, তাদের মঙ্গলের জন্য এই ওয়াটার শেয়ারিং হবে৷ আমার বিশ্বাস, এটা ওরাও যেমন চিন্তা-ভাবনা করছে, আমরাও চিন্তা করছি৷ এগুলো সমস্যা আর সমস্যা থাকবে না৷’

আরও পড়ুন
সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
  • সেই ভূমিহীন ১১ পরিবার পেলো সরকারি জমি

  • বাংলা ইশারা ভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

  • ভিক্ষুকমুক্ত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

  • দুর্নীতিবাজদের ধরে ধরে বিচার করতে হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী 

  • জাতীয় পার্টি শক্তিশালী বিরোধী দল: রাঙ্গা

  • রিপোর্ট দেওয়ার নামে যাচ্ছেতাই মন্তব্য করলেই হবে না: দুদক

  • রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে হামলার শিকার দুই সাংবাদিক

  • রংপুরের আইনজীবী বাবু সোনা হত্যায় স্ত্রী স্নিগ্ধার মৃত্যুদণ্ড

  • ফিরতে পারে ডাইনোসর!

  • শনি গ্রহে মেঘ ছাড়াই চরম বৃষ্টি

  • ব্রেক্সিট সমাধান যাচাই মঙ্গলবার

  • নিঃসঙ্গ হাঁসটির বিদায়

  • ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে আসাম!

  • হাড়কাঁপানো শীতে সাঁতার!

  • বিপিএল ছাড়ছেন ডি ভিলিয়ার্স

  • বিপর্যয় কাটাতে হিমশিম খাচ্ছে জাপান

  • এসএসসির প্রশ্নের মোড়ক খুলবে তিন কর্মকর্তার স্বাক্ষরে

  • ‘দরিদ্র ও মেধাবী দুজন ছাত্র/ছাত্রীকে পড়াতে চাই’

  • ‘মেঘনা নদীর চারপাশে নতুন নতুন চর জেগে ওঠছে’

  • শপথের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করলেন ঐক্যফ্রন্টের দু’জন প্রার্থী

  • শ্রম মন্ত্রণালয়কে ইপিজেড পরিদর্শনের ক্ষমতা দিয়ে আইন

  • ‘নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চাইলে ইউএস-বাংলার দুর্ঘটনা এড়ানো যেত’

  • ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেবে ছাত্রদল

  • ‘আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশ আমেরিকার চেয়ে ভালো হবে’

  • ‘সাংবাদিক সমীর দেবনাথ আর নেই’

  • সৌদিতে পাসপোর্ট ইকামা কার্ড রাখতে পারবেন না নিয়োগকর্তা

  • ‘ঐক্যফ্রন্টের প্রতিক্রিয়া গণতন্ত্র সম্মত নয়’

  • গণভবনে বিদেশি কূটনীতিকদের আপ্যায়ন

  • ‘আওয়ামী লীগ ছেড়ে আমি আসিনি’

  • চীনের সঙ্গে যৌথ রেল প্রকল্প নিয়ে চুক্তি বাতিল করল মালয়েশিয়া